বিয়ের বায়োডাটায় কী কী তথ্য দেবেন, আর কী দেবেন না
প্রকাশিত: · হালনাগাদ:
লগইন ছাড়াই শুরু, ৫ মিনিটে তৈরি, PDF ডাউনলোড ফ্রি।
ফ্রি বায়োডাটা বানানবিয়ের বায়োডাটা হলো দুই পরিবারের প্রথম পরিচয়। তথ্য খুব কম দিলে অপর পক্ষ আপনাকে বুঝতে পারবে না, আবার অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিলে তা ভুল হাতে পড়ার ঝুঁকি থাকে — বিশেষ করে যখন বায়োডাটা হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে ঘুরে বেড়ায়।
এই লেখায় দেখে নিন কোন তথ্যগুলো প্রায় সব পরিবার জানতে চায়, কোনগুলো ঐচ্ছিক, আর কোনগুলো বায়োডাটায় কখনোই দেওয়া উচিত নয়।
যে তথ্যগুলো প্রায় সবাই জানতে চান
ব্যক্তিগত তথ্য
- নাম — পুরো নাম, যেভাবে কাগজপত্রে আছে।
- জন্ম তারিখ ও বয়স — শুধু বয়স না লিখে জন্ম তারিখ দিলে বয়স নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয় না।
- উচ্চতা — ফুট ও ইঞ্চিতে। সঠিক উচ্চতা লিখুন; পরে দেখা হলে পার্থক্য চোখে পড়বেই।
- বৈবাহিক অবস্থা — অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা/বিপত্নীক।
- ধর্ম ও জাতীয়তা।
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা — জেলার নাম যথেষ্ট। পুরো ঠিকানা পরে, আলাপ এগোলে দেবেন।
রক্তের গ্রুপ ও ওজন ঐচ্ছিক। অনেকে দেন, অনেকে দেন না — দুটোই স্বাভাবিক।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
সর্বশেষ ডিগ্রি দিয়ে শুরু করুন, তারপর আগেরগুলো। প্রতিটির জন্য ডিগ্রি বা পরীক্ষার নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাসের সাল আর ফলাফল লিখুন। এসএসসি আর এইচএসসি সাধারণত সবাই উল্লেখ করেন।
পেশা
পেশা আর প্রতিষ্ঠানের নাম লিখুন। প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করতে না চাইলে ধরনটা লিখতে পারেন, যেমন "একটি বেসরকারি ব্যাংক"।
মাসিক আয় ঐচ্ছিক। অনেক পরিবার প্রথম পর্যায়ে আয় না লিখে পরে সরাসরি আলোচনায় জানায় — এতে কোনো সমস্যা নেই।
পারিবারিক তথ্য
বাবা ও মায়ের নাম ও পেশা, ভাই-বোনের সংখ্যা এবং তাদের মধ্যে কে কে বিবাহিত। চাইলে পরিবারের ধরন (একক বা যৌথ) উল্লেখ করতে পারেন।
নিজের সম্পর্কে
দুই-তিন লাইনে নিজের স্বভাব, পছন্দ আর জীবন নিয়ে ভাবনা লিখুন। এই অংশটাই বায়োডাটাকে একটা তালিকা থেকে একজন মানুষের পরিচয়ে বদলে দেয়। বড় রচনা নয় — ছোট, সৎ আর নির্দিষ্ট লিখুন।
প্রত্যাশিত জীবনসঙ্গী
বয়সসীমা, শিক্ষা, এলাকা বা অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা। স্পষ্ট লিখুন, কিন্তু এত কড়া শর্ত দেবেন না যে উপযুক্ত কেউ আগ্রহই হারিয়ে ফেলেন।
যোগাযোগ
অভিভাবকের নাম, আপনার সঙ্গে সম্পর্ক, আর মোবাইল নম্বর। বাংলাদেশে সাধারণত নিজের নয়, অভিভাবকের নম্বর দেওয়াই প্রচলিত — এটা নিরাপদও।
যে তথ্যগুলো বায়োডাটায় দেবেন না
বায়োডাটা অনেক হাত ঘুরে অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছায়। তাই নিচের তথ্যগুলো বায়োডাটায় কখনোই দেবেন না:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর। এগুলো দিয়ে প্রতারণা করা যায়। আলাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে সরাসরি দেখাবেন।
- পুরো বাসার ঠিকানা — বাসা নম্বর, রোড নম্বর। জেলা বা এলাকার নামই যথেষ্ট।
- ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য, কোনো অবস্থাতেই।
- বিস্তারিত স্বাস্থ্য তথ্য। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই জানাবেন, তবে সেটা সিরিয়াস আলোচনায়, সবার কাছে পাঠানো কাগজে নয়।
আরেকটা কথা: আমাদের ফর্মে গায়ের রঙের কোনো ঘর নেই, এবং সেটা ইচ্ছা করেই। একজন মানুষকে জানার জন্য এটা দরকারি তথ্য নয়।
অনলাইনে শেয়ার করার আগে
- ফেসবুক গ্রুপ বা পাবলিক পোস্টে বায়োডাটা দিলে মোবাইল নম্বর লুকিয়ে রাখুন। আগ্রহী পরিবার মেসেজ দিয়ে যোগাযোগ করবে।
- পাবলিক জায়গায় ছবি দিতে না চাইলে ছবি ঝাপসা করে বা বাদ দিয়ে শেয়ার করুন।
- লিংক দিয়ে শেয়ার করলে এমন ব্যবস্থা ব্যবহার করুন যেখানে পরে লিংক বন্ধ করা যায়।
সংক্ষেপে: পরিচয় বোঝার জন্য যা দরকার, তা পরিষ্কার করে দিন। যা দিয়ে কেউ আপনার ক্ষতি করতে পারে, তা বায়োডাটায় রাখবেন না।
চেকলিস্ট
পাঠানোর আগে একবার মিলিয়ে নিন:
- নাম, জন্ম তারিখ, উচ্চতা ঠিক আছে?
- শিক্ষা ও পেশার তথ্য হালনাগাদ?
- নিজের সম্পর্কে দুই-তিন লাইন লিখেছেন?
- যোগাযোগের নম্বরটি অভিভাবকের?
- NID, পুরো ঠিকানা বা আর্থিক তথ্য নেই তো?
- বানান আর তারিখগুলো আরেকবার দেখেছেন?
সব ঠিক থাকলে আপনার বায়োডাটা তৈরি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা
- বায়োডাটায় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দেওয়া কি ঠিক?
- না। এনআইডি, পাসপোর্ট নম্বর বা ব্যাংকের তথ্য কখনো বায়োডাটায় দেবেন না।
- পুরো বাসার ঠিকানা দেব?
- না, শুধু জেলা বা এলাকা লিখুন। পুরো ঠিকানা পরে, পরিচয় এগোলে জানানো যায়।
- মাসিক আয় লেখা কি জরুরি?
- না, এটি ঐচ্ছিক। অনেকে আলোচনা এগোলে জানান।
- বায়োডাটায় কী কী তথ্য অবশ্যই থাকা দরকার?
- নাম, বয়স, উচ্চতা, শিক্ষা, পেশা, পারিবারিক তথ্য, প্রত্যাশা আর অভিভাবকের যোগাযোগ।